অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ ও মধ্যপ্রাচ্য সংকট

লাফার্জহোলসিমের বিক্রি ও মুনাফায় ভাটা

দেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ ও উচ্চ মূল্যস্ফীতির পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্য সংকটের প্রভাবে ক্রমবর্ধমান জ্বালানি সংকটের প্রভাবে লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশ পিএলসির চলতি ২০২৬ হিসাব বছরের প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) বিক্রি ও নিট মুনাফা কমেছে।

এর মধ্যে বিক্রি কমেছে ৬ শতাংশ এবং কর-পরবর্তী নিট মুনাফা কমেছে ১৯ শতাংশ। গতকাল অনুষ্ঠিত সভায় চলতি হিসাব বছরের প্রথম প্রান্তিকের অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুমোদন করেছে লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশের পর্ষদ।

আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে, চলতি ২০২৬ হিসাব বছরের প্রথম প্রান্তিকে নিট বিক্রি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৬ শতাংশ কমে প্রায় ৮০৪ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। আগের বছরের একই সময় এর পরিমাণ ছিল ৮৫১ কোটি টাকা। আলোচ্য প্রান্তিকে কোম্পানিটির কর-পূর্ববর্তী নিট মুনাফা ১৯ শতাংশ কমে ১১২ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে, আগের বছরের একই সময়ে যা ছিল ১৩৯ কোটি টাকা। চলতি হিসাব বছরের প্রথম প্রান্তিকে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ৯৭ পয়সা, আগের হিসাব বছরের একই সময়ে যা ছিল ১ টাকা ২০ পয়সা।

প্রথম প্রান্তিকে আর্থিক ফলাফলের বিষয়ে লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ইকবাল চৌধুরী বলেন, ‘অব্যাহত মূল্যস্ফীতি ও উচ্চ জ্বালানি খরচের কারণে তৈরি হওয়া কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও আমরা উদ্ভাবন ও পরিচালনগত উৎকর্ষের মাধ্যমে টেকসই অবস্থান ধরে রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রতিবন্ধকতাগুলো আমাদের মুনাফা মার্জিনের ওপর চাপ তৈরি করছে। এমন কঠিন পরিস্থিতিতেও আমাদের বিশেষায়িত পণ্য “‍হোলসিম ওয়াটার প্রোটেক্ট” ও “‍সুপারক্রিট প্লাস” শক্তিশালী পারফরম্যান্স অব্যাহত রেখেছে, যা বাজারে আমাদের অবস্থান ও ভোক্তাদের বিশ্বাসকে আরো সুদৃঢ় করেছে। আমরা বছরের শুরুতেই কোম্পানির পণ্যে বৈচিত্র্য আনতে “‍হোলসিম কোস্টাল গার্ড” ও “‍পাওয়ারক্রিট” নামে দুটি বিশেষায়িত পণ্য বাজারে এনেছি, যেগুলো যথাক্রমে উপকূলীয় অঞ্চল ও রেডিমিক্সের জন্য বিশেষভাবে প্রস্তুতকৃত। সামনের প্রান্তিকগুলোতে এ পণ্যগুলো কোম্পানির ব্যবসায়িক প্রবৃদ্ধি অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে আমরা আশাবাদী। বাজারের বর্তমান অস্থিরতা মোকাবেলায় আমরা সক্রিয়ভাবে কঠোর ব্যয় সংকোচন নীতি এবং কৌশলগত মূল্য নির্ধারণের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছি। উদ্ভাবনের প্রতি আমাদের অব্যাহত প্রতিশ্রুতি এবং পরিচালন দক্ষতার ভারসাম্য বজায় রেখে আমরা সামগ্রিক ব্যবসায়িক পারফরম্যান্স উন্নতিসাধনের মাধ্যমে টেকসই প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছি।’

সর্বশেষ সমাপ্ত ২০২৫ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের জন্য মোট ৪০ শতাংশ চূড়ান্ত নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশের পর্ষদ। এর মধ্যে ১৮ শতাংশ অন্তর্বর্তী নগদ লভ্যাংশ। আলোচ্য হিসাব বছরে কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ৪ টাকা ৪০ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৩ টাকা ২৯ পয়সা। ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ শেষে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ১৬ টাকা ৪১ পয়সায়।

৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০২৩ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের ৫০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে কোম্পানিটির পর্ষদ। আলোচ্য হিসাব বছরে লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশের ইপিএস হয়েছে ৫ টাকা ১২ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৩ টাকা ৮৩ পয়সা। ৩১ ডিসেম্বর ২০২৩ শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ১৯ টাকা ১৪ পয়সায়।

৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০২২ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের ৪৮ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে কোম্পানিটির পর্ষদ। আলোচ্য হিসাব বছরে লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশের ইপিএস হয়েছে ৩ টাকা ৮৩ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৩ টাকা ৩৪ পয়সা। ৩১ ডিসেম্বর ২০২২ শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ১৫ টাকা ২৫ পয়সায়।

৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০২১ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের ২৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে কোম্পানিটির পর্ষদ। আলোচ্য হিসাব বছরে লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশের ইপিএস হয়েছে ৩ টাকা ৩৪ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ২ টাকা ৩ পয়সা। ৩১ ডিসেম্বর ২০২১ শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ১৭ টাকা ৪ পয়সায়।

সুইজারল্যান্ডভিত্তিক হোলসিম গ্রুপ ও স্পেনভিত্তিক সিমেন্টোস মলিন্স গ্রুপের যৌথ উদ্যোগ লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশ পিএলসি দেশের পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয় ২০০৩ সালে। বর্তমানে কোম্পানিটির অনুমোদিত মূলধন ১ হাজার ৪০০ কোটি ও পরিশোধিত মূলধন ১ হাজার ১৬১ কোটি ৩৭ লাখ টাকা। রিজার্ভে রয়েছে ৬৯৭ কোটি ৮৬ লাখ টাকা। মোট শেয়ার সংখ্যা ১১৬ কোটি ১৩ লাখ ৭৩ হাজার ৫০০। এর ৬৩ দশমিক ৩৯ শতাংশ রয়েছে উদ্যোক্তা পরিচালকদের কাছে। এছাড়া প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ২২ দশমিক ৪৪, বিদেশী বিনিয়োগকারী দশমিক ৭৮ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে বাকি ১৩ দশমিক ৩৯ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।

আরও